Posts

সত্যের চেয়ে কেন নিরাপত্তাকে বেছে নেয় মস্তিষ্ক?

Image
মানুষ আদিকাল থেকেই নিজেকে সত্যের অন্বেষী বলে দাবি করে আসছে। কিন্তু বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান এবং স্নায়ুবিজ্ঞানের দর্পণে তাকালে এক ভিন্ন রূঢ় বাস্তবতা ফুটে ওঠে। আমরা আসলে সত্যকে ভালোবাসি না; বরং আমরা এমন একটি আরামদায়ক মিথ্যার খোঁজে থাকি যা আমাদের অস্তিত্বের নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করে। আমাদের মস্তিষ্কের বিবর্তন সত্য উদঘাটনের জন্য হয়নি, বরং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার (Survival) তাগিদে হয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক সাভানা অঞ্চলে যখন হোমো ইরেক্টাস বা নিয়ান্দারথালরা বিচরণ করত, তখন প্রকৃতির নিগূঢ় রহস্য বোঝা তাদের অগ্রাধিকার ছিল না। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল বিপদ থেকে বাঁচা। বিবর্তন তাদের শিখিয়েছিল—ভয় পেলে পালাতে হবে, অনিশ্চয়তাকে গল্পের ছাঁচে ফেলে ব্যাখ্যা করতে হবে এবং একাকীত্বের ভীতি দূর করতে অতিপ্রাকৃতিক সত্তার কল্পনা করতে হবে। আজ আমাদের উন্নত মস্তিষ্কের গভীরেও সেই আদিম তাড়নাগুলো সক্রিয়। সত্য প্রায়ই নির্মম হয়। এটি আমাদের চিরচেনা নিরাপত্তা কেড়ে নেয়, দীর্ঘদিনের লালিত বিশ্বাস ভেঙে দেয় এবং অনেক সময় আমাদের সামাজিকভাবে একা করে দেয়। আর এই একাকীত্বই মানুষের সবচেয়ে বড় ভয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার য...

অনুদান নাকি ভিক্ষা? মজুরি নাকি চাঁদা?

Image
 নিচের শব্দগুলো লক্ষ্য করুন- “মজুরি”,“অনুদান”,“ভিক্ষা”, “চাঁদা” মজুরি বা বেতন শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত অর্থ।সেই অর্থ স্বেচ্ছায় মন থেকে দান করা হলো অনুদান। আর কাউকে অনুরোধ করে তার ইচ্ছা বা অনিচ্ছা যেকোনোভাবে কোনো শ্রমের বিনিময় ছাড়া অর্থ নেওয়া হচ্ছে ভিক্ষা।কারো থেকে জোর খাঁটিয়ে বা বাধ্য করে(কোনো দলগত কাজের fee বা খরচ নয়) অথবা নিজের ক্ষমতা খাঁটিয়ে অর্থ গ্রহন হচ্ছে চাঁদাবাজি। বেতন বা মজুরি নিজের শ্রমের অর্জন,এটা গ্রহনের সময় আত্নসম্মান কিছু কমে না বরং বাড়ে।অনুদানের (ডোনেশন) ক্ষেত্রে দাতা সম্মানিত হয় কিন্তু গ্রহীতার কিছু কমে না।ভিক্ষার ক্ষেত্রে অবশ্যই গ্রহীতার আত্নসম্মান কমে যায় কেননা কোনো কিছুর বিনিময়ে সে দাতার থেকে অর্থ নিচ্ছেনা, যেখানে সে চাইলে পরিশ্রম করেই অর্থ উপার্জন করতে পারতো।কিন্তু ভিক্ষুক মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে অর্থ চাইতে পারে অথচ সে চাইলে সামান্য কাজ করেই অর্থ অর্জন করতে পারতো,এতে তার সম্মান বাড়তো বইকি কমতোনা।চাঁদাবাজি এ সমাজের অন্যতম বড় সমস্যা।অমুকের চাচা বড় ক্ষমতাবান লোক,তাই অমুক জোড় করে তমুকের কাছ থেকে তার চাচার প্রভাব খাটিয়ে টাকা নিচ্ছে= চাঁদাবাজি। ব্রীজ হয়ে গেছে একশ বছর ...

অক্লান্ত পরিশ্রম: বাস ড্রাইভারদের অদেখা ত্যাগ

Image
মাঝেমধ্যেই বেশ লম্বা বাস জার্নি করতে হয় আমাকে। কখনো কখনো সেই জার্নি একটানা ৫-৬ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়ায়। শুভাকাঙ্খীরা যখন এই অভিজ্ঞতা শুনে ব্যথিত হন, তখন তারা আমার জন্য সমবেদনা জানায়। কিন্তু আমি প্রায়শ ভাবি সেই ড্রাইভারদের কথা, যারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ অথবা দিনাজপুর থেকে রওয়ানা দিয়ে নিয়মিত সিলেট, চট্টগ্রাম, কিংবা লক্ষীপুর যাতায়াত করে। তাঁদের কথা ভাবলে মনে হয়, তাঁদের কাজটা কতটা কঠিন, এবং সেই কঠিন পরিশ্রমের ফলে আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাই।এই মানুষগুলোর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই প্রতি রাতে হাজারো মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। তাদের ত্যাগের কারণেই আমি প্রতিদিন ক্লাস করার মতো সুযোগ পাই, যেখানে এই দীর্ঘ যাত্রার শেষে আমাদের থাকার ও কাজ করার জায়গা হয়। অথচ, তাঁদের শ্রমের মূল্য অনেক সময় আমাদের অজান্তেই অগোচরে চলে যায়। যখন আমরা রাস্তার জ্যামে আটকা পড়ি (ঈদের সময় বাদে), তখন আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়। তবে আমাদের খারাপ লাগা কিছুকাল পরেই কেটে যায়, কারণ আমরা জানি যে, কিছু সময় পরেই আমরা গন্তব্যে পৌঁছাব। কিন্তু বাস ড্রাইভারের জন্য বিষয়টা একেবারেই আলাদা। রাস্তায় তাদের একে একে ষোলো-আঠারো ঘণ্টা পর্যন্ত ড্রাইভিং সিটে বসে থা...

শেখ হাসিনার পতন এবং প্রভাবশালী শ্রেণীর ভূমিকা

Image
লেখাটি পড়ার আগে একটু Influential পিলার সম্পর্কে জানি। এই গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে সামরিক কর্মকর্তা, বিদেশী মিত্র বা অন্যান্য ক্ষমতার দালাল যারা সরাসরি একজন নেতার ক্ষমতায় থাকার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।তাদের সমর্থন হারানো পতনের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যেমনটি শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে দেখা গেছে। (আর্মি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।) জুলাই-আগস্টের কথা চিন্তা করুন, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলো ছাত্র-জনতা রাস্তায় নামলো। বিভিন্ন পয়েন্ট ব্লক করা এবং গণভবন দখল করার দিকেই যাচ্ছিল; শেখ হাসিনা পুলিশ দিয়ে জনসমুদ্র নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলেন তারপর সীমান্ত থেকে বিজিবি এবং তিনি আর্মি ডেপলয় করলেন। দ্যা লাস্ট লাইন অফ ডিফেন্স আর্মি গোটা ঢাকা ঘিরে ফেলল কিন্তু মানুষের গায়ে গুলি ছুড়লো না, চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলো; ওদিকে মানুষের মিছিলে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গেল। সেনারা কার্যত কিছুই করল না, অর্থাৎ বোঝা গেল শেখ হাসিনার ক্ষমতার মসনদের এই গুরুত্বপূর্ণ Influential পিলার বা স্তম্ভটিকে হারিয়ে ফেলেছেন সেটা হলো আর্মি। আর্মি যেহেতু হাসিনার উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সেহেতু এটাও বোধগম্য আমেরিকাও আর চাচ্...